You are currently viewing ডাবল চিন কমানোর উপায় | ডবল চিন আপনার লজ্জার কারণ?

ডাবল চিন কমানোর উপায় | ডবল চিন আপনার লজ্জার কারণ?

ডাবল চিন কেন হয়?

ডাবল চিন কমানোর উপায় জানার আগে আপনার জানতে হবে, ডাবল চিন কেন হয়? বয়স বেশি হয়নি অথচ অনেকেরই থুতনির নিচে মানে গলায় চর্বির একটা স্তর জমা হয়। দেখে মনে হয় চিবুকের নিচে আরেকটি চিবুক। একেই বলা হয় ডাবল চিন (Double Chin)। কথাটিকে আরেকটু বুঝিয়ে বলি, আমাদের চিবুকের অধীনে থাকা চামড়ার ইলাস্টিন যখন কোলাজেন তন্তুর ভাঙ্গনের কারণে লুজ হয়ে যায় এবং তার স্থিতিস্থাপকতা হারায় তখন একটি ডাবল চিবুকের উদ্ভাবন হয়। ডাবল চিন কমানোর উপায় নিয়ে অনেকে জানতে চায় ফিট বেতে। আজ তাই এ এজিং ঘটিত সমস্যা থেকে পরিত্রাণের টিপস দেব।

ডাবল চিন কমানোর উপায় Double_Chin -Fit Bay

কীভাবে কমাবেন ডবল চিন?(How to reduce double chin?)

সাধারণত, ডাবল চিবুক ন্যাচারাল এজিং প্রক্রিয়ার একটি অংশ। এমনকি অনেক বছর ধরে সূর্য এক্সপোজার বা জেনেটিক্স জনিত কারণে এমনটি ঘটতে পারে। আমরা এর থেকে পরিত্রাণের জন্য সাধারণত মুখের ব্যায়াম করে থাকি। কিন্তু আমাদের অনেকেরই ব্যায়ামের প্রতি ভীষণ অনীহা থাকে। অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি অনীহা প্রকাশ করে তেমন কোন লাভ হবে না। বরং ব্যায়ামের পাশাপাশি আরও কিছু ঘরোয়া উপায়ের মাধ্যমে যদি এই ডাবল চিন নামক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তাহলে এর চেয়ে সুখবর কি আর কিছু আছে? এই উপায়গুলো ডাবল চিন প্রতিরোধের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে। আজ আমরা জানবো ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে কীভাবে আমাদের মুখের ত্বককে সুদৃঢ় এবং টানটান করে তুলতে পারি।

ডাবল চিন কমানোর ব্যায়াম (Exercises to reduce double chin)

১। ফিশ ফেস

সেলফির জন্য পাউট করা প্রবণতা তো সকলেরই কম বেশি আছে। পাউট করে যদি আপনি ছবি তুলতে পছন্দ করেন তাহলে এতাকে যোগ করে নিন আপনার ডেইলি রুটিনে। ব্যায়ামের জন্য পাউটিং মুখের মেদ কমায় এবং একই সাথে এটি মুখকে পাতলা দেখাতে সাহায্য করে থাকে। আপনি যদি এই ব্যায়ামটি প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট জন্য করেন, তাহলে আপনি পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

২। চুইংগাম (chewing gum)

ডাবল চিন থেকে মুক্তি পেতে চুইংগাম আপনাকে অনেক সাহায্য করে থাকে। চুইংগাম বা মৌরী চিবানোর সময় ঘন ঘন চোয়ালের নড়াচড়া আপনার মুখের পেশীগুলিকে আলগা করে এবং একইভাবে ডবল চিন কমাতে সাহায্য করে। এটি আপনার গালের পেশীগুলিকেও শক্ত করে এবং একই সাথে চোয়ালকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে।

৩। মুখে হাওয়া ভরে

মুখে হাওয়া ভরে নিন। এবার তা ডান গালে রাখুন। তারপর বাঁ গালে। তারপর উপরে-নীচে। এভাবে ২০-৩০ সেকেন্ডের সেটে ৫বার করুন। দেখবেন গাল আপনার অনেকটাই কমেছে।

৪। চিবুক উত্তোলন

মুখ হা করে চিবানোর মতো মুখ করে মাথা উপরের দিকে তুলুন। এবার মাথা উঁচিয়ে মুখ হাঁ করে এমন ভাব করুন যেন কিছু চিবোচ্ছেন। এভাবে ১০-১৫ বার করে করুন ৪-৫ বার। বিশ্রাম নিয়ে আরও ৫ সেট করুন।

৫। গলার মাংসপেশি সংকোচনের মাধ্যমে হাসি

দেখতে বা করতে অদ্ভুত লাগলেও এই ক্রিয়া চমৎকার ফলপ্রদ। ঠোঁট যত দূর প্রসারণ করা যায় করে হাসুন। গলার মাংসপেশিগুলোকে যথাসাধ্য সংকুচিত ধরে রাখুন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকবে। তবে দম আটকে রাখবেন না। ৩০-৬০ সেকেন্ড ধরে রাখবেন। যখন করবেন ৫-১০ বার করুন। উপকারিতা: ডাবল চিনের সমস্যা দূর করে। চোয়ালের গঠন সুন্দর করে।

ডাবল চিন কমানোর উপায় Double_Chin -Fit Bay

ডাবল চিন কমানোর খাবার তালিকা (Double chin reduction food list)

হুইট জারম অয়েল (Wheat germ oil)

ডাবল থুতনি থেকে মুক্তি পেতে হুইট জারম অয়েল দারুন উপকারী। নিয়মিত এ তেল ব্যবহারে চামড়ায় টানটান ভাব আসে। ঘুমানোর আগে কয়েক ফোঁটা তেল ঘাড় ও গলায় মালিশ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে মালিশের সময় তাড়াহুড়ো না করাই ভালো। প্রায় ২০ মিনিট ধরে গলার নীচের দিক থেকে উপরের দিক পর্যন্ত মালিশ করতে হবে। সারা রাত তেল গলায় লাগিয়ে রেখে পরের দিন সকালে ধুয়ে ফেলুন।

ডিমের সাদা অংশ (Egg whites)

ডাবল চিন কমানোর উপায় হিসেবে একটি ডিমের সাদা অংশ মুখের মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এই মাস্ক তৈরি করার জন্য দুটি ডিমের সাদা অংশের সাথে এক টেবিল চামচ দুধ, এক চা চামচ বাদামের তেল, এক টেবিল চামচ লেবুর রস এবং মধু নিন এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সব উপকরণ মিশিয়ে নিন। তারপর এই মিশ্রণ আপনার চিবুক এবং ঘাড়ের চারপাশে লাগিয়ে নিন আধা ঘন্টার জন্য। এরপর উষ্ণ জল দিয়ে মাস্ক তুলে ফেলুন। ডিমের সাদা অংশ ত্বকের সুস্বাস্থ্য প্রদান করে এছাড়াও চিবুকের এলাকায় পানি রিটেইন করা থেকে বিরত রাখে। দ্রুত ফলাফল পেতে দৈনন্দিন একবার এই মাস্ক প্রয়োগ করুন।

ভিটামিন ই (Vitamin E)

ভিটামিন ই ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য ভীষণভাবে প্রয়োজনীয়। ডাবল চিন কমানোর উপায় হিসেবে এটি বেশ প্রশংসনীয়। আপনার খাদ্য তালিকায় ভিটামিন ই এর অনুপ্রবেশ saggy ত্বকের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। ভিটামিন ই এর কারণে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায় অতঃপর ডাবল চিবুক হ্রাস পায়। ভিটামিন ই এর প্রধান উৎস হল বাদামি চাল, শাক সবজি, দুগ্ধজাত খাবার, ডাল, মিষ্টি ভুট্টা, আপেল, সয়াবিন, কলিজা। এই আইটেমগুলোর প্রতিদিন খাদ্যের মধ্যে রাখুন আর ডাবল চিবুক থেকে সহজেই পরিত্রাণ পেয়ে যান।

কোকোয়া বাটার (Cocoa butter)

কোকো মাখন দিয়ে চিবুক এবং ঘাড় মালিশ করলে চিবুকে রক্ত ​​প্রবাহ বৃদ্ধি পায় ফলশ্রুতিতে ডাবল চিবুক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। কোকো মাখন ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা অর্থাৎ ইলাস্টিসিটি বজায় রাখতে সাহায্য করে। দুই টেবিল চামচ কোকো মাখন নিন এবং এটি সামান্য গরম করুন। ডাবল চিবুক এই গরম কোকো মাখন হালকা হাতে ম্যাসেজ করুন। দ্রুত ফলাফল পেতে প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিটের জন্য ম্যাসেজ করুন। এই প্রক্রিয়ার নিয়মিত অবলম্বন আপনার ডাবল চিবুক ধীরে ধীরে কমিয়ে আনবে। ঘুমানোর আগে বা গোসলের আগে এটি করা ভালো। কোকোয়া বাটার ব্যবহারে ত্বকের উজ্জ্বলতাও বাড়ে।

তরমুজ (Watermelon)

তরমুজের রস ডাবল চিবুক কমাতে সাহায্য করে, কারণ তরমুজ ত্বকের টোনার হিসেবে কাজ করে। তাজা তরমুজের রস নিন এবং একটি তুলোতে নিয়ে চিবুক এবং ঘাড়ের অংশে ব্যবহার করুন। প্রায় ১৫-২০ মিনিটের জন্য ত্বকে রস রেখে দিন এবং পরে পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। আপনি যদি ভালো ফলাফল পেতে চান তাহলে তরমুজের রসের সঙ্গে আপেল জুস মিশ্রিত করে চিবুকে প্রয়োগ করুন এবং কয়েক মিনিটের জন্য এটি ম্যাসেজ করুন। তরমুজ ভোজনকারীর ওজন দ্রুত কমে যায়। যা ডাবল চিবুক অপসারণের আরেকটি পদ্ধতি।

গ্লিসারিন মাস্ক (Glycerin Mask)

ডাবল চিন থেকে মুক্তির আরেকটি উপায় হল গ্লিসারিন মাস্ক। এটি অন্যতম ঘরোয়া উপায়ও বটে। এক চামচ গ্লিসারিনের সাথে আধা চামচ বাথ সল্ট এবং কয়েক ফোঁটা গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। কটন বলে নিয়ে এই মাস্ক চিন এবং গলায় লাগিয়ে নিন। এরপর সব পুষ্টি যেন সঠিক ভাবে শোষিত হয় সেজন্য আধা ঘণ্টার জন্য চিবুকে লাগিয়ে রাখুন। গ্লিসারিন ত্বকে আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং বাথ সল্ট ওয়াটার রিটেনসন হ্রাস করে। আধা ঘণ্টা পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ইতিবাচক ফলাফল পেতে দৈনিক ৩-৫বার এই মাস্ক প্রয়োগ করুন।

পানি পান (Drink Water)

যদি আপনি ডাবল চিনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চান তবে বেশি বেশি পানি পান করুন। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শরীরে পানির অভাব হলে মুখ ভারী হয়ে যায়। তাই ডাবল চিবুক কমাতে দৈনিক অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। আপনি বেশি পরিমাণে ফল ও সবজি খেয়েও আপনার শরীরের পানির ভাগ বাড়াতে পারেন। আপনি যদি দ্রুত ফলাফল পেতে চান তবে কফি, চা, এবং মদ জাতীয় পানীয় পান থেকে দূরে থাকুন।

সবুজ চা (Green Tea)

সবুজ চায়ের বিপাকীয় হার বৃদ্ধি করার ক্ষমতা আছে। ফলে এই চা সেবনে শরীর থেকে অতিরিক্ত চর্বি বার্ন হয়। দিনে কয়েক কাপ সবুজ চা পান আপনার বিপাকীয় হার বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে এবং ক্যালরি বার্ন হবে আর আমরা জানি শরীরে অতিরিক্ত মেদের (Fat) জন্য ডাবল চিন দেখা যায়।

ডাবল চিন দূরীকরণে ঘরোয়া উপায়ের উপকারিতা

  • এদের অধিকাংশই প্রাকৃতিক পণ্য বা প্রমাণিত চর্চা উপর ভিত্তির করেই ব্যবহার করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয় তাই এগুলো নিরাপদ।
  • ডাবল চিন প্রতিকারে ব্যবহৃত অধিকাংশই পণ্যই সস্তা এবং সহজে পাওয়া যায়।
  • ডাবল চিবুক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কস্মেটোলজির সাহায্যর নেয়া লাগেনা।
  • উপকার না হলেও যেন অপকার না হয় সেই ব্যাপারে আপনি নিশ্চিন্ত থাকবেন ।

ডাবল চিন কমানোর উপায় তো জেনে নিলেন। তাহলে আজই ডাবল চিন প্রতিরোধের যুদ্ধে নেমে যান। উপরোক্ত টিপস মেনে চললে জয়ী আপনি হবেনই। এগুলোর সঙ্গে নিয়মিত ডাবল চিন কমানোর ব্যায়াম ভুলবেন না।

ডাবল চিন কমানোর জন্য ললনা শপ (Lolona Shop) থেকে রোজ কোয়ার্টজ রোলার এবং গুয়া শা সেট, রোজ কোয়ার্টজ আই মাস্কএবং রোজ কোয়ার্টস ফেস মাস্ক। কিনতে পারেন এগুলো আপনার ডাবল চিন কমাতে সাহায্য করবে।

Leave a Reply